প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শ্রমঘন শিল্পে বেতন ও উৎসব বোনাস পরিশোধ নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের ৫০ থেকে ৬০টি কারখানায় শ্রম অসন্তোষ তৈরি হতে পারে প্রতিবারের থেকেও এবার বেশী অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সময়মতো বকেয়া মজুরি,বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে ব্যর্থ বা জটিলতা তৈরি হলে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।তাই এ পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি ও নজরদারি জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন শিল্প মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
পোশাক শিল্প খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়, যা অনেক সময় আন্দোলন বা কর্মবিরতিতে রূপ নেয়।
নতুন সরকারের জন্য তা যেন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে, সে বিষয়ে আগাম সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাই সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় আগাম পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এদিকে ঈদপূর্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী মঙ্গলবার ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির (টিসিসি) বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোয় বিশেষ নজরদারি জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাঁরা মনে করে ২০ রমজানের আগেই শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ এড়ানো সম্ভব হবে। শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিও বজায় থাকবে।
ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধে সম্ভাব্য আর্থিক চাপ মোকাবেলায় স্বল্প সুদে ঋণ (সফট লোন) ও বকেয়া নগদ প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছে (বিজিএমইএ)।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক খান বাবলু ও সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিঠি হস্তান্তর গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, খাতটির প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা এখনো বকেয়া রয়েছে।
ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে যাতে কারখানাগুলো সংকটে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত এই অর্থ ছাড়ের অনুরোধ করা হয়েছে।ও দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ সহজ শর্তে সফট লোন চাওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএর হিসাবে খাতটির মাসিক বেতন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী দুই মাসে প্রয়োজন প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংগঠনটি জানিয়েছে, সব কারখানা সমান প্রণোদনা পায় না। বিশেষ করে ওভেন ও সোয়েটার কারখানাগুলো তুলনামূলক বেশি চাপের মুখে থাকে।
তিনি বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রণোদনার অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন এবং স্যালারি সাপোর্টের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে উত্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন।
এছাড়াও (আশুলিয়া) অনেক কারখানার শ্রমিক ঈদের আগে মজুরি ও বোনাস পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। কিছু কারখানায় নির্বাচন ও আন্দোলনের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়াকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ শাহাজান বলেন, কিছু কারখানা এখনো জানুয়ারি মাসের মজুরি পরিশোধ করতে পারেনি এবং ঠিকাদারি ভিত্তিতে পরিচালিত কারখানাগুলোতে বকেয়া পরিশোধে বেশি সমস্যা হতে পারে।
বিশ্ববাজারে পোশাকপণ্যের চাহিদা হ্রাস ও দরপতন, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ও বিভিন্ন কারণে ২৮ দিনের মাসে কার্যকর উৎপাদন কার্যদিবস কমে মাত্র ১৯ দিনে নেমে এসেছে। ফলে শিপমেন্ট ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কারখানা তারল্য সংকটে পড়ছে। এ অবস্থায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও উৎসব বোনাস সময় মতো পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
Reporter Name 















