ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বামীর জীবন বাঁচাতে সর্বস্ব বিক্রি, শেষে তালাক—এখন মিথ্যা মামলায় হয়রানি: ন্যায়বিচার চাইছেন টাঙ্গাইলের সালমা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ২৬০ Time View

মানবতার এক নির্মম পরিহাস—যে স্ত্রী নিজের স্বামীর জীবন বাঁচাতে বাবার বাড়ির শেষ সম্বল পর্যন্ত বিক্রি করেছেন, আজ তাকেই মিথ্যা মামলা, পুলিশি হয়রানি ও প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কাচিনা জয়দেব, নগর বাড়ী-১৯৭৬ এলাকার বাসিন্দা সালমা (পিতা: মোকাদ্দেছ আলী, মাতা: হাসনা বেগম) অভিযোগ করেন, গত ২৮ জুন ২০২৪ তারিখে তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তিনি জীবন বাঁচাতে নিজের বাবার বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসা চালান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর স্বামী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কিন্তু সেই ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে তিনি পান নির্মম বাস্তবতা। স্বামী ও শাশুড়ি আরও অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন, এমনকি তার মা ও ভাইয়ের জমি বিক্রির জন্য জোরাজুরি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ০২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাকে তালাক দেওয়া হয়।
এরপর তিনি আইনের আশ্রয় নিলে শুরু হয় নতুন অধ্যায়—হয়রানি ও প্রতিশোধের রাজনীতি।
শাশুড়ি বাদী হয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন, যেখানে তাকে ও তার আত্মীয়-স্বজনদের গুরুতর ফৌজদারি ধারায় আসামি করা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ একপেশে প্রতিবেদন দিয়েছে, যা ভুক্তভোগীর কাছে গভীর হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ,
স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি দলের উপজেলা বিএনপি সভাপতি, এ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা (ফাইলিং লইয়ার) এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই মিথ্যা মামলা পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন—
“যেখানে একজন আইনজীবীর দায়িত্ব ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো, সেখানে তিনি অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আমাকে নিপীড়নের শিকার করছেন। এটি শুধু অন্যায় নয়, নৈতিকতার চরম অবক্ষয়।”
বর্তমানে সালমা জামিনে থাকলেও প্রতিনিয়ত পুলিশি চাপ, সামাজিক অপমান ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
তার আকুতি—
“আমি একজন অসহায় নারী। স্বামীর জীবন বাঁচাতে আমি আমার সবকিছু দিয়েছি। আজ আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সমাজে হেয় করা হচ্ছে। আমি রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি—এই অন্যায়ের সঠিক তদন্ত হোক, প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক, এবং আমাকে এই হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”
শেষ কথা:
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি আমাদের সমাজে নারীর ত্যাগ, ন্যায়বিচার ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। সুত্র: বাংলার সংবাদ।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত থেকে এলো আরো ৭ হাজার টন ডিজেল, মার্চ মাসেই ভারত থেকে মোট আমদানি ২২ হাজার টন ডিজেল।

স্বামীর জীবন বাঁচাতে সর্বস্ব বিক্রি, শেষে তালাক—এখন মিথ্যা মামলায় হয়রানি: ন্যায়বিচার চাইছেন টাঙ্গাইলের সালমা।

Update Time : ০৬:২৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মানবতার এক নির্মম পরিহাস—যে স্ত্রী নিজের স্বামীর জীবন বাঁচাতে বাবার বাড়ির শেষ সম্বল পর্যন্ত বিক্রি করেছেন, আজ তাকেই মিথ্যা মামলা, পুলিশি হয়রানি ও প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কাচিনা জয়দেব, নগর বাড়ী-১৯৭৬ এলাকার বাসিন্দা সালমা (পিতা: মোকাদ্দেছ আলী, মাতা: হাসনা বেগম) অভিযোগ করেন, গত ২৮ জুন ২০২৪ তারিখে তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তিনি জীবন বাঁচাতে নিজের বাবার বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসা চালান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর স্বামী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কিন্তু সেই ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে তিনি পান নির্মম বাস্তবতা। স্বামী ও শাশুড়ি আরও অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন, এমনকি তার মা ও ভাইয়ের জমি বিক্রির জন্য জোরাজুরি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ০২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাকে তালাক দেওয়া হয়।
এরপর তিনি আইনের আশ্রয় নিলে শুরু হয় নতুন অধ্যায়—হয়রানি ও প্রতিশোধের রাজনীতি।
শাশুড়ি বাদী হয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন, যেখানে তাকে ও তার আত্মীয়-স্বজনদের গুরুতর ফৌজদারি ধারায় আসামি করা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ একপেশে প্রতিবেদন দিয়েছে, যা ভুক্তভোগীর কাছে গভীর হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ,
স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি দলের উপজেলা বিএনপি সভাপতি, এ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা (ফাইলিং লইয়ার) এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই মিথ্যা মামলা পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন—
“যেখানে একজন আইনজীবীর দায়িত্ব ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো, সেখানে তিনি অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আমাকে নিপীড়নের শিকার করছেন। এটি শুধু অন্যায় নয়, নৈতিকতার চরম অবক্ষয়।”
বর্তমানে সালমা জামিনে থাকলেও প্রতিনিয়ত পুলিশি চাপ, সামাজিক অপমান ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
তার আকুতি—
“আমি একজন অসহায় নারী। স্বামীর জীবন বাঁচাতে আমি আমার সবকিছু দিয়েছি। আজ আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সমাজে হেয় করা হচ্ছে। আমি রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি—এই অন্যায়ের সঠিক তদন্ত হোক, প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক, এবং আমাকে এই হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”
শেষ কথা:
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি আমাদের সমাজে নারীর ত্যাগ, ন্যায়বিচার ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। সুত্র: বাংলার সংবাদ।