রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কদমতলী থানা প্রেসক্লাব ঘিরে বিরোধ: কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, বাড়ছে বিভাজনের আশঙ্কা শান্ত হচ্ছে সাগর, চার বন্দরে নামলো বিপদের লাল নিশানা দেশে দেশে আধিপত্যবাদের রোল প্লে ৩ নম্বর সংকেতে কাঁপছে সমুদ্রবন্দর, সন্ধ্যার আগেই ৭ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির হানা আস্থাহীনতার সংকটে চারদিক ৫ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘অ্যালার্মিং’: সংসদে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না’ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত আমেরিকা: মানবাধিকার হরণকারী এক অসভ্য দেশ

কদমতলী থানা প্রেসক্লাব ঘিরে বিরোধ: কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, বাড়ছে বিভাজনের আশঙ্কা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২১ Time View

নির্বাচন ছাড়াই কমিটি ঘোষণার অভিযোগ; পাল্টাপাল্টি অবস্থানের শঙ্কা, প্রশাসনের কাছে ‘আমলনামা‘ দেওয়ার প্রস্তুতি

নির্বাচন কোথায়, কমিটি হলো কীভাবে? কদমতলী প্রেসক্লাবে বিরোধ!

ইবনে ফরহাদ তুরাগঃ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই নির্বাচন ছাড়াই একটি কমিটি ঘোষণা করার অভিযোগ। সেই কমিটিকে ঘিরে বৈধতার প্রশ্ন, পাল্টা অবস্থান এবং নতুন করে বিভাজনের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে কদমতলী থানা প্রেসক্লাব এখন স্থানীয় সাংবাদিকদের বিরোধের কেন্দ্রে। বিষয়টি গড়াচ্ছে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ ও তথ্য-উপাত্ত তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি পর্যন্ত।

রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় সাংবাদিকদের সংগঠন ‘কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকা’র কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে এই বিরোধ। স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া চলমান থাকার মধ্যেই নির্বাচন ছাড়াই একটি পক্ষ কমিটি ঘোষণা করেছে। তবে ওই কমিটির বৈধতা ও প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অপর পক্ষের সাংবাদিকরা।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিরোধের সুরাহা না করে কোনো একটি পক্ষকে সাংগঠনিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তৈরি হতে পারে পাল্টাপাল্টি কমিটি, নতুন প্রেসক্লাব, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ কিংবা প্রকাশ্য কর্মসূচি। দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের কারণে সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

মূল প্রশ্ন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া

বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি প্রশ্ন—‘কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকা’র বিতর্কিত কমিটি কী প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে?

সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের একাংশের বক্তব্য, একটি পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সদস্যদের অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক বিধি এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বা অন্য কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। তাঁদের প্রশ্ন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যদি এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তার নথিপত্র কী এবং সদস্যদের কাছে সেই প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা কতটা ছিল?

তাঁদের মতে, সদস্যপদ, কমিটি গঠন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর সেই প্রশ্নের সমাধান না হলে বিরোধ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

‘প্রেসক্লাবের নামে প্রেসক্লাবের প্রতিযোগিতা’

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, একটি কমিটিকে বিতর্কের মধ্যেই বৈধতা দেওয়া হলে অপর পক্ষও পাল্টা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে পারে। সেখান থেকে একই এলাকায় একাধিক সংগঠন নিজেদের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দাবি করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তখন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে—‘কার প্রেসক্লাব বৈধ?’

একটি সংগঠনের কমিটি নিয়ে তৈরি বিরোধের গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে ভবিষ্যতে একই এলাকায় আরও কয়েকটি সংগঠন একই ধরনের দাবি তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কেউ কেউ। এতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে তৈরি হতে পারে ‘প্রেসক্লাবের নামে প্রেসক্লাবের প্রতিযোগিতা’।

একই এলাকায় একাধিক পক্ষ নিজেদের প্রেসক্লাব হিসেবে দাবি করলে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বহিরাগতদের নিয়ে নতুন সংগঠনের আশঙ্কা

বিরোধের আরেকটি দিক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, বর্তমান বিরোধের একটি পক্ষকে সাংগঠনিক স্বীকৃতি দেওয়ার দৃষ্টান্ত তৈরি হলে এলাকার বাইরে থাকা সাংবাদিকদের একটি অংশও কদমতলী এলাকায় নতুন প্রেসক্লাব গঠনের উদ্যোগ নিতে পারেন।

অন্যদিকে, বর্তমান কমিটিকে অবৈধ ঘোষণার দাবিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। ফলে একটি সাংগঠনিক বিরোধ ধীরে ধীরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও প্রকাশ্য কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠে নামতে পারে সাংবাদিকদের একাধিক গ্রুপ!

বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে দুই গ্রুপই শক্ত অবস্থান নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর পরিণতিতে বিবৃতি, প্রতিবাদ, মানববন্ধন কিংবা প্রশাসনের কাছে অভিযোগের মতো কর্মসূচি দেখা দিতে পারে।

সাংবাদিকদের মতো একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর মধ্যে এমন বিরোধ প্রকাশ্য কর্মসূচিতে রূপ নিলে পারস্পরিক পেশাগত সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও উত্তেজনার আশঙ্কা

বিরোধটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। কোনো সাংবাদিকের রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, স্থানীয় বিএনপির লোকজন ওদের অবৈধ কমিটিকে আওয়ামী সরকারদলীয় দোসর ভেবে যেকোনো সময় হামলা করতে পারে। সেখানে রক্তারক্তিও হয়ে যেতে পারে। তারা প্রশাসনকে অভিযোগ দিবে এমন খবরও রয়েছে আলোচনায়। যার ফলে কোনো পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে কোনো যার ফলে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থেকে সাংগঠনিক বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে।

তবে এসব রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দাবি যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এ কারণে বিরোধের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়কে যুক্ত করার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও নথির ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের কাছে ‘আমলনামা’ দেওয়ার প্রস্তুতি

বিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশাসনের কাছে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের উদ্যোগ। স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যপদ, গঠনপ্রক্রিয়া, সাংগঠনিক বৈধতা, রাজনৈতিক পরিচয় ও কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রশাসনের কাছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

প্রয়োজনে উকিল নোটিশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিষয়টি সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশাসনিক বা আইনগত পর্যায়েও গড়াতে পারে।

চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে দায় কার?

বিরোধের মধ্যে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে সেটির দায়ও সাংবাদিক সমাজের এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

তাদের দাবি, এসব কমিটির সদস্যকৃত ছদ্দবেশী সাংবাদিকরা নিজেদের চাঁদাবাজি দাঁড়া—নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে জনরোষের শিকার হতে পারে। এর প্রভাব স্থানীয় ক্লাবগুলোর মধ্যে পড়বে।

তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার দায় পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর চাপানো যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

এ ক্ষেত্রে অভিযোগ, প্রমাণ ও ব্যক্তিগত দায়—তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ার আশঙ্কা

একটি সাংবাদিক সংগঠনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বাড়তে থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ বা নজরদারি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিকের বক্তব্য, নথি বা তথ্য চাওয়া হলে বিরোধ আরও আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে যেতে পারে। এতে সাংবাদিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় গোয়েন্দা পর্যায়েও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রতিনিধিত্বের সংকট

একই এলাকায় একাধিক পক্ষ নিজেদের ‘প্রেসক্লাব’ দাবি করলে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হতে পারে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে।

প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি একটি কমিটিকে পুরো এলাকার সাংবাদিকদের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে অন্য সাংবাদিকদের মতামত ও অংশগ্রহণ উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে এমন বিভক্তি স্থানীয় সাংবাদিকদের সম্মিলিত পেশাগত গ্রহণযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ একটি এলাকার সাংবাদিকদের মধ্যে সাংগঠনিক ঐক্য দুর্বল হলে শুধু সংগঠন পরিচালনাই নয়, বিভিন্ন পেশাগত বিষয়ে সম্মিলিত অবস্থান নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সিদ্ধান্তের আগে স্বচ্ছতার দাবি

বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, কমিটি গঠনের নথি যাচাই, সদস্যপদের তথ্য পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের দাবি, বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করে সকলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।

তাঁদের মতে, কে কোন পক্ষের—এটি নয়; বরং কে সংগঠনের বৈধ সদস্য, কীভাবে কমিটি গঠিত হয়েছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে—এসব প্রশ্নের উত্তরই হওয়া উচিত সিদ্ধান্তের ভিত্তি।

সামনে কী?

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের বর্তমান বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায়, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ার ওপর।

এক পক্ষকে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিবর্তে সদস্যপদ, গঠনপ্রক্রিয়া, সাংগঠনিক বিধি ও নির্বাচনসংক্রান্ত নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিরোধ মীমাংসার একটি গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, বিরোধ অব্যাহত থাকলে পাল্টাপাল্টি কমিটি, নতুন সংগঠন, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ কিংবা প্রকাশ্য কর্মসূচির মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিশেষে

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবকে ঘিরে বর্তমান বিরোধ মূলত একটি কমিটির বৈধতা, সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। এই প্রশ্নের সমাধান যদি স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিকভাবে না হয়, তাহলে বিরোধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকদের সংগঠন নিয়ে তৈরি বিরোধের সমাধানও সাংবাদিকসুলভ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত বিরোধকে সাংগঠনিক বৈধতার প্রশ্নের সঙ্গে একীভূত না করে নথি, নিয়ম এবং সদস্যদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বর্তমান সংকটের সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।

তা না হলে একটি কমিটিকে ঘিরে তৈরি বর্তমান প্রশ্ন ভবিষ্যতে একাধিক কমিটি ও সংগঠনের বিরোধে রূপ নিতে পারে। তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ পেশাগত প্ল্যাটফর্ম ও গ্রহণযোগ্যতার।

সাংবাদিকদের সংগঠন নিয়ে বিরোধের শেষ কথা তাই কোনো পক্ষের শক্ত অবস্থান নয়—বরং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত।

ইএসবি/নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© 2026 All rights reserved © eisomoyebangladesh
কারিগরি সহযোগিতায়: Bangla Webs
ThemesBazar-Jowfhowo