ঢাকা কলেজে প্রোগ্রামে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষে জড়ান তারা।
এ ঘটনায় সায়েন্সল্যাব এবং এর আশপাশের এলাকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নিউমার্কেট জোনের এডিসি শওকত আলী বলেন, ‘আজকে একটি পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি যাতে সাংঘর্ষিক রূপ না নেয়, সেজন্য আমরা ঘটনাস্থলে আছি। রাস্তা চলাচল সামরিকভাবে বন্ধ ছিল। পরে আমরা তাৎক্ষণিক তা ক্লিয়ার করেছি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষের এ ঘটনাকে ‘কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি’ উল্লেখ করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। উপাচার্যের নির্দেশক্রমে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, ৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
এছাড়া জুলাই শহীদ একরামুল হক সাদিদের সাতজন স্বজন সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।আদেশে আরও বলা হয়, আলোচনা সভা চলাকালে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের বাইরে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রশাসন মনে করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেজবাহ উল আলম সওদাগর। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহিনুজ্জাহ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটিকে ঘটনার সার্বিক তদন্ত করে দায়ীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।