বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামীকাল প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে আসছেন। সফরের অংশ হিসেবে এদিন সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে রওনা দিয়ে তিনি প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যাবেন। সেখান থেকে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উজ্জীবিত বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল থেকে মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো সাংগঠনিক সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। অতীতে রাজনৈতিক দলের সভাগুলোয় জেলা বা মহানগরের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্মসম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে এবার সেই চর্চার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে তিন সাংগঠনিক জেলার আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা অংশ নেবেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ৫৩ জন সদস্য, ৩৫ ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সরাসরি দলীয় প্রধানের সামনে নিজেদের মতামত ও স্থানীয় রাজনীতির বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংগঠনিক সভায় বিএনপির ৬ শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেবেন। যার মধ্যে মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকবে। একই সঙ্গে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতারাও থাকবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেন,বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের নেতৃত্বে সব সময় আস্থা রেখেছেন। তৃণমূলের রাজনীতি দিয়েই পুরো বাংলাদেশে উনার যে জনপ্রিয়তা, উনার যে রাজনৈতিক দর্শন এটা ছড়িয়েছেন। এজন্যই উনি সব সময় তৃণমূলকে মূল্যায়ন করে আসছেন।’
এদিকে রবিবার কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর এ আগমন কেন্দ্র করে কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন এবং দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি কোনো জনসভা নয়, সম্পূর্ণ অফিশিয়াল ভিজিট। মাতারবাড়ীর এ মেগা প্রকল্পগুলো শুধু বাংলাদেশ নয়, এটা একটি ইকোনমিক হাব।প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত করা সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান ওইদিন সকাল ৯টায় মহেশখালীতে পৌঁছে সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে তিনি দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন স্থানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ত্রাণ বিতরণ এবং ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেবেন। এরপর বেলা ১টায় প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ি যাবেন। সেখানে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতির পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের প্রতিটিকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ১৫ জন প্রতিবন্ধীর প্রত্যেককে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দেবেন তিনি। সফরসূচির শেষ দিকে সন্ধ্যায় মহানগরের পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সভা শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।