সামছুদ্দোহা সোহাগ:
কোনো রাষ্ট্র বা সরকার যখন যে কোনো মিশ্রিত জনগোষ্ঠীর আবাসভূমিতে একক জনগোষ্ঠীর শাসন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য যে কোনো জনগোষ্ঠীর মানুষদের হত্যা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিতাড়িত করতে আদিম বা আধুনিক মারণাস্ত্র দ্বারা নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে- ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা ‘জাতিগত নিশ্চিহ্নকরণ।’ এমনটিই ঘটছে ফিলিস্তিনে। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল কর্তৃক বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের জাতিগতভাবে নিধন করে কিংবা তাড়িয়ে দিয়ে দখল করা হচ্ছে তাদের সকল সম্পদ ও ভূমি। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের দখলে থাকা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ১৩টি ইহুদি বসতিকে ‘স্বতন্ত্র’ ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রীসভা। এসব বসতি শেষতক স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এই অনুমোদনের মধ্যদিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব আরও সুসংহত হলো। যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। গণমাধ্যমে উঠেছে, গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধের মধ্যেও ভারত অস্ত্র রপ্তানি করেছে ইসরায়েলে। অবশ্য এখনকার ভারত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্রের ক্রেতাও। ভারতের হিন্দু ডানপন্থীরা বহুবছর ধরে জায়নবাদী মতাদর্শ সমর্থন করে আসছে। মোদি’র বিজেপির শিকড়ও হিন্দুত্ববাদী দর্শনে। এই দর্শনের মূল লক্ষ্য ভারতকে সম্পূর্ণরূপে হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা। এই দর্শনমতে ভারত রাষ্ট্র হবে শুধুমাত্র হিন্দুদের আবাসভূমি। ইসরায়েলও ঠিক একইভাবে তাদের ভূখন্ডকে ইহুদিদের আবাসভূমি হিসাবে দেখে। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জায়নবাদকে বর্ণবাদের একটি রূপ আখ্যাদিয়ে প্রস্তাব আনা হয়েছিল। ভারত সেই প্রস্তাব সমর্থনও করেছিল। ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা(পিএলও) স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম অনারব দেশ ভারত। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্য ভারতও রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিল ভারত। কয়েক দশক ধরে ভারত ছিল ফিলিস্তিনের বড় সমর্থক দেশগুলোর একটি। ইউরোপ ছিল ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকদের অন্যতম। অথচ তারা এখন ইসরায়েলকে ছাড় দিতে নারাজ। গাজায় জাতিগত নিধন ও পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইউরোপের অন্তত ১১ টি দেশ ও কানাডা ইসরায়েলের উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গাজা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার গঠন করার পর ভারতের অবস্থান বদলে যেতে থাকে। জেরুজালেমে মোদীর উপস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েল পার্লামেন্টে মোদীকে ইসরায়েলের মহান বন্ধু হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন।
আফ্রিকা মহাদেশটির ৫৪ দেশের মধ্যে ৫৩ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিতে বৈশ্বিক স্নায়ুযুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র পরিণত হয়েছে। জাতিগত নিধনচক্রে বৈষম্য-বিরোধ-বিচ্ছেদ-সহিংসতার আচ্ছাদনে সারা বিশ্বের লাখো মানুষের ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের অসহনীয় কাতরতার দোলাচালে ঘুরপাক খাচ্ছে মানবতা। ফিলিস্তিন- ইরাক-ইরান-ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে নারি-শিশু-কিশোর-যুবক ও বৃদ্ধদের হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতাধরদের কুৎসিত শক্তির প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে। পূর্ব ইউরোপে সার্বদের দ্বারা বসনিয়ানদের নিধনের ঘটনাটি বিশ্ববাসীর জানা। আফ্রিকায় হুতু ও তুসসি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও এমনটিই হয়েছিল। মিয়ানমারেও এমনটি হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর। বার্মিজ সামরিক জান্তার নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যার শিকারে পরিণত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। প্রাণের ভয়ে ভীত ও জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। সশস্ত্রবাহিনী দ্বারা নারি-পুরুষদের আলাদা করে, শিশুদের পিতৃত্বহীন করে,পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে, এক জাতিগোষ্ঠীকে অন্য জাতীগোষ্ঠীর ওপর লেলিয়ে দিয়ে জ্বালাও, পোড়াও, ধর্ষণ ও নির্বিচারে নৃশংস গণহত্যার মূলেই কিন্তু ‘এথনিক ক্লিনজিং।’ গত রমজান মাসে যখন সমগ্র পৃথিবীর মুসলমানগণ সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক রুহানি প্রচেষ্টায় সিয়াম সাধনা চালিয়ে যাচ্ছিল, তখন মুসলিম জাতির মহান রমজান মাসেও বর্বরতা থেমে ছিলনা ফিলিস্তিনের গাজায়। অথচ ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বলবৎ ছিল তখন। আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান- কোনো কিছুই আমলে না নিয়ে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল নৃশংসতা চালাচ্ছে। যুদ্ধ বিরতির সময়ে হঠাৎ রাতের অন্ধকারে গাজার আকাশ আগুনের লেলিহান শিখা ও আধুনিক মারণাস্ত্রের অগুণিত ভয়াবহ শিঙ্গা ফুঁ- ধ্বনিতে কেঁপে উঠল। সেইসঙ্গে নারি,শিশু ও গাজাবাসীর করুণ কান্নার রোলে ভারি হয়ে উঠল গাজার রাতের পরিবেশ। রক্তপিপাসু উলফ ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) -এর অত্যাধুনিক ট্যাংক, মিসাইল, যুদ্ধ বিমান, রকেট বোমা ও রণকৌশল হামাসসহ সম্মুখসমরের ইসলামী ফ্রন্টগুলোকে দুর্বল করতে না পেরে মরিয়া হয়ে ওঠে। ইসরায়েলের কদর্য মারমুখী আক্রমণে গাজা উপত্যকায় ধারাবাহিক নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারি ও শিশু। প্রায় ২১ হাজার শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে, গাজার রাফা অঞ্চলে আর কোনো মানুষ বেঁচে নেই। আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় সোয়া লাখ। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় পাঁচলাখের বেশি গাজাবাসী। গাজা উপতক্যায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং ৬০ শতাংশ ভূমি এখন ইসরায়েল বাহিনীর দখলে। ফ্ল্যাশব্যাক ১০৯৬ সাল। সিরিয়া ও ফিলিস্তিন জোর করে দখলে নেয় ক্রুসেডের খ্রিস্টানরা। বায়তুল মুকাদ্দাসে মুসলমানদের বিভিন্ন স্থাপনায় তারা পরিবর্তন আনে। প্রায় ১০০ বছর পর ১১৮৭ সালে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি নামের এক লড়াকু যোদ্ধা বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলমুক্ত করেন। কেটে গেলো অনেক বছর। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যে নেমে আসে ফের দুর্ভোগ। ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনে অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। বিংশ শতাব্দির চল্লিশের দশক থেকে ইহুদিবাদী ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনের ভূমি দখলের পর সুকঠিন সময় অতিবাহিত হতে থাকে। অতঃপর ১৯৭৯ সালে পশ্চিমা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ইরানে সংঘটিত হয় ইসলামী বিপ্লব। ইরানের স্বৈরাচারী রাজা রেজা শাহ পাহলভির পতন প্রক্রিয়ায় একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে ফিলিস্তিন ইস্যু। যার মূলে ছিলেন ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম সৈয়দ রুহুল্লাহ মুসাভি খোমেনি। সেই থেকে ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রাম চলছে কখনো ঢিমেতালে, কখনো অপ্রতিরোধ্য ভাবে। যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজা আক্রমণের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল পরিষ্কার করে দিয়েছে, কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করলে কিছুই হয়না- যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্ররা যদি পাশে থাকে। গাজায় ইসারায়েলী আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের সুনামকে প্রশ্নের সম্মুখীন করার পরও ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় আবার হামলা শুরু করার জন্য ইসরায়েলকে সবুজ সংকেত যে দিয়েছিল, এটি পরিষ্কার। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ বিজয় ও ভূখন্ড সম্প্রসারণ’ -এর মতো বিষয়কে ট্রাম্প প্রশাসন বিরোধীতা করতে অস্বীকার করে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গাজায় যুদ্ধ শুরুর দায়ভার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ওপর চাপিয়েছিলেন। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের বউ! দখল এবং হত্যা এটাই এখন ইসরায়েলের মূলমন্ত্র। ট্রাম্প নিজেকে বিশ্বের নতুন শেরিফ মনে করলেও ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বিন্দুমাত্র পরোয়া করছেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠদের মতে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা ও গাজা জয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থ নেই। গাজায় যুদ্ধ- পরবর্তী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগ্রহহীনতা ও হামাসের সঙ্গে আলোচনা থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ফের একতরফা যুদ্ধ শুরু করেছে। বেপরোয়া ইসরায়েল প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চুপ থাকায় বিশ্ব এখন বিশৃঙ্খলতার দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরানের মধ্যেও যুদ্ধ চলমান। যা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশগুলোতেও। বলা চলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এখন অশান্ত, যার জের টানছে পুরো বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র- ইসরায়েলের সম্মিলিত সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধে শুধু ইরানেই নিহত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজারের বেশি বেসামরিক নারি-পুরুষ ও শিশু। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার। সামরিক ও অর্থনৈতিক ভাবে প্রচন্ড চাপের মুখে থেকেও ইরান সর্বশক্তি দিয়ে একাই লড়ে যাচ্ছে বিশ্বপরাশক্তিধর দেশ দুটির বিরুদ্ধে। মার্কিন কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, দীর্ঘ যুদ্ধ চললেও ট্রাম্প প্রশাসন এখনও তাদের কৌশলগত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেননি। এই যুদ্ধে ৮১ টি যুদ্ধ বিমান হারায় যুক্তরাষ্ট্র। যার মূল্য ৩.৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যান্য ক্ষতির হিসাব আরও ব্যাপক। ইসরায়েল ও হিজবুল্লার মধ্যে চলমান লেবানন যুদ্ধে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ নিহত এবং আহত হয়েছেন প্রায় বারো হাজারেরও বেশি মানুষ। ২০১৪ সাল থেকে চলমান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সরাসরি মৃত্যু প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ। প্রায় ৫০ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার শিশু রয়েছেন। পঙ্গুত্বের শিকার প্রায় ২২ হাজার শিশু। আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। মানুষ মরছে কিন্তু ক্ষমতাধারী দেশগুলো চুপ। বিচ্ছিন্নভাবে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেও সত্যিকারের জোরালো প্রতিবাদ হচ্ছে না বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে। প্রতিবাদ একটা করা দরকার এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশসহ কিছু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানরক্ষা মূলক তোপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। শক্তিমান রাষ্ট্রের দানাপানিতে পুষ্ট জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস নামকাওয়াস্তে শুধুমাত্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। আমরা দেখেছি- নিন্দাই জাতিসংঘের একমাত্র কাজ! মিসর, কাতার, জর্ডান, তুরষ্ক, সৌদি আরব, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও মিনমিনে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সত্য, কিন্তু- প্রতিবাদের হুঙ্কার ধ্বনিতে কাঁপেনি বিশ্ব। বিশ্ব বিবেক এখনো গভীর ঘুমে। এই ঘুম কি ভাঙবে না? ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যা দেখে ইতোমধ্যে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ দেশে দেশে আওয়াজ তুলেছে- ফিলিস্তিন মুক্তি পাক, ইসরায়েল নিপাত যাক। আশার কথা- নোবেল কমিটি চলতি বছর ২০২৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারপতি ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই- এর নাম। তিনি কর্মজীবনে রুয়ান্ডা, মিয়ানমার ও গাজাসহ বিভিন্ন নিপীড়িত দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নিয়েছেন। শক্তিধর রাষ্ট্রের এথনিক ক্লিনজিং প্রক্রিয়ায় এখন হয়তো গাজা, অপরাপর দুর্বল রাষ্ট্রে আগুন লাগতে কতোক্ষণ? যদি এই ঘুমের সংস্কৃতি বহাল থাকে- তাহলে তো ক্ষুদ্র ও দুর্বলরা একসময় শক্তিমানদের পেটে হজম হয়ে যাবে। শুধুমাত্র পশ্চিমাদের কারণে নয়- সত্যিকার অর্থে আরব রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক ইচ্ছা ও ঐক্যের অভাবে আজ ইসরায়েল কর্তৃক গাজা জ্বলছে। গণমাধ্যমে ইসরাইলি দানবদের ধ্বংসযজ্ঞ ও নৃশংসতায় হতাহত গাজার নারি ও নিষ্পাপ শিশুদের করুন আহাজারি দেখে আমার মনে হচ্ছে- বিশ্ববিবেক বলে কিছুই নেই। বিশ্ববিবেক চিরকালই শক্তিমানদের দাসত্ব করে। সৃষ্টির শুরু থেকে জাতিসংঘও শক্তিমানদের দাস মাত্র। বিশ্বমানবাধিকার সংস্থাগুলোও শক্তিবলয়ের দাস। এমতাবস্থায়- শক্তিহীনদের কী হবে? মানবাধিকার দাবিকারী শান্তিকামী আধুনিক বিশ্বে- এ প্রশ্নের জবাব মিলবে কী?
( লেখক : সামছুদ্দোহা সোহাগ, সম্পাদক, আজকের সূর্যোদয়।)
[মতামত লেখকের নিজস্ব]