মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
এথনিক ক্লিনজিং কি চলতেই থাকবে? সরকারের সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দল বদলের সরকার নয়- দরকার রাষ্ট্রীয় কাঠামো বদলের সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ আসিফ নজরুলের গ্রেফতার চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব : রাষ্ট্রপতি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি পাচার ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ: আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কদমতলী থানা প্রেসক্লাব ঘিরে বিরোধ: কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, বাড়ছে বিভাজনের আশঙ্কা শান্ত হচ্ছে সাগর, চার বন্দরে নামলো বিপদের লাল নিশানা

সরকারের সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৪৩ Time View

 

মোহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম:

সরকার পরিবর্তনশীল কিন্তু রাষ্ট্র স্থায়ী। সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের তথা দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ বা ভাগ্য।
বিএনপি তখন ক্ষমতায়। ৯০ দশকের প্রথম দিকে যখন ইন্টারনেট আমাদের উপমহাদেশে (ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুর সহ এই অঞ্চলে) সংযোক্ত হচ্ছিলো তখন সরকারের ভুল সিদ্ধন্তের কারনে বাংলাদেশ ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বাদ পরে, যার খেসারত এখনও রাষ্ট্রকে বইতে হচ্ছে। সে সময় (১৯৯২-১৯৯৩) সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে ফাইবার অপটিক লাইন সরবরাহ করা হচ্ছিল, এবং ইন্টারনেট সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংযোগ দিতে ছেয়েছিল। তৎকালীন মাননিয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না, তিনি সচিব সাহেবদের পরামর্শ চাইলেন, সচিবগণ উনাকে ভুল পরামর্শ দিয়ে বললেন এই সংযোগ নিলে বাংলাদেশের তথ্য অন্য দেশে পাচার হয়ে যাবে, মাননিয় প্রধানমন্ত্রী এই কথা শুনে সংযোগ গ্রহন না করার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ আজও প্রযোক্তি বিদ্যায় পিছিয়ে আছে।
পরবর্তী সরকার এই প্রস্তাব পূনবিবেচনা করে এবং সংযোগ গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সংযোগ আর ফ্রী পাওয়া যায় নি। তৎকালীন সরকার বিপুল পরিমান টাকায় ইন্টারনেট সংযোগ নিতে বাধ্য হয়।

২০২৬-এ আবারো বিএনপি ক্ষমতায়, আবারো বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারি অনেকগুলি সুজুগ এসেছে। সরকার চাইলে এই সুজুগ গুলি গ্রহন করতে পারে যা বাংলাদেশেকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিনত করবে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চায়না করিডোর স্থাপনের প্রস্তাব একটি ঐতিহাসিক সুযোগ বাংলাদেশের জন্য। সরক পথে চায়নার সাথে দ্রুত পন্য আদান-প্রদান, সহজ যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এই করিডোর একটি যুগান্তকারি ভুমিকা রাখবে, যা আমাদের অর্থনীতিকে আরো বেগবান করবে। এর সবই সম্ভব যদি আমরা এই প্রস্তাবে রাজি হই তবে।

সর্বশেষ বাংলাদেশের জন্য সবচাইতে বর যে সুজুগটি আসেছে তা হল ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ তে যোগদান। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান কর্তৃক বাংলাদেশকে সাম্প্রতিক স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Mecca Joint Defence Agreement)-তে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ঐতিহাসিক সুযোগ। সার্বভৌমত্ব রক্ষা বা বৈশ্বিক নিরাপত্তা জোরদারে এই জোট হতে পারে বাংলাদেশের জন্য ট্রামকার্ড।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর এই নিরাপত্তা জোটে যোগদানের বিষয়টি ঢাকা ইতিবাচকভাবে দেখছে; দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে একটি ঐতিহাসিক বিচক্ষণ নেতৃত্বের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে যার সাথে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ জড়িত।
পাকিস্তান যেভাবে আমেরিকা ও চীনের সাথে সমান্তরাল সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, সেভাবে আমাদের ও দক্ষ কূটনীতি দিয়ে ২১ শতকের ভূ-রাজনীতির উত্তাল তরঙ্গ দক্ষ হাতে মুকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই।
প্রতিবেশিকে কৌশলগত চাপে রাখতে হলে বাংলাদেশকে এই জোটে যোগ দেওয়া এবং চীনের সাথে করিডোর স্থাপনের প্রস্তাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর হাতে।

(লেখক, মোহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম ,গবেষক, মিডিয়া ও সমাজ কর্মী)

 

 

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধে প্রকাশিত সমস্ত তথ্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, মন্তব্য এবং মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখক মোহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম -এর একান্তই নিজস্ব।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© 2026 All rights reserved © eisomoyebangladesh
কারিগরি সহযোগিতায়: Bangla Webs
ThemesBazar-Jowfhowo