বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকার দুটি পৃথক স্থানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত পৌনে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই বিস্ফোরণে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিবরণ ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সামনে প্রথম দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর কিছুক্ষণ পর টিএসসির পাশে মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন সড়কেও আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আকস্মিক এই শব্দে আশপাশের এলাকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
তদন্ত ও প্রক্টরিয়াল টিমের বক্তব্য ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাবি প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই সহকারী প্রক্টরদের নেতৃত্বে একটি দল পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এদিকে, প্রক্টর কার্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী দলের প্রধান ইউসুফ হারুন প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানান, জগন্নাথ হলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের সময় রাস্তায় কোনো যানবাহন বা সন্দেহভাজন কাউকে দেখা যায়নি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ হয়তো হলের ওপর বা ওপরের কোনো অংশ থেকে এটি ছুঁড়ে মেরে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন সড়কের ককটেলটি একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ছুঁড়ে দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বর্তমান অবস্থাবিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে একটি তাৎক্ষণিক সংক্ষিপ্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাবি শাখা।
ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।